মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ন

মোড়ে মোড়ে দুস্থদের ত্রাণের জন্য অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : করোনা ভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সাধারণ ছুটির কারণে সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খেটে খাওয়া মানুষ হয়ে পড়েছেন কর্মহীন। ভিক্ষুকরাও এখন ভিক্ষা করতে বের হতে পারছেন না। তবে এসব খেটে খাওয়া মানুষকে সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এগিয়ে আসছে। অনেকে আবার ব্যক্তি উদ্যোগেও ত্রাণ বিতরণ করছেন। তবে রাজধানীতে ভাসমান দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের সংখ্যা কম নয়। যাদের বেশির ভাগেই ঘর বলতে কিছু নেই। আবার যাদের ঘর আছে তারাও এই পরিস্থিতিতে হয়ে পড়েছেন কর্মহীন। তাই এমন মানুষেরা তাদের নিজেদের ক্ষুধা নিবারণে বের হয়েছেন খাবারের খোঁজে।

রবিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে এসব ত্রাণপ্রার্থী অসহায় মানুষকে অপেক্ষা করতে। কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কিছুই পাচ্ছেন না। এমনই একজন সাবের আলী। যাকে এয়ারপোর্ট এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কাউকে দেখলেই ত্রাণের কথা জিজ্ঞেস করছেন। একটু গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, খেটে খাওয়া মানুষ তিনি। সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এখন তাকে মানুষের কাছে হাত পাততে হচ্ছে কিছু ত্রাণ পেলে তিনি আর বের হবেন না। আজিমপুর এলাকায় কথা হয় কুলসুম বেগমের সঙ্গে। তিনি বাচ্চাসহ অপেক্ষা করছেন ত্রাণের জন্য। কোনো গাড়ি এসে থামলেই মনে করেন এই বুঝি ত্রাণ এলো। তাই দৌড়ে যান গাড়ির কাছে। কিন্তু তার সঙ্গে যখন কথা হয়, তিনি জানান এখন পর্যন্ত কিছু পাননি। তাই অপেক্ষা করে আছেন।

অন্যদিকে বঙ্গবাজারে কথা হয় ছালমা আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, এখানে ভিক্ষা করে পরিবার চালাতাম। কিন্তু এখন রাস্তায় কোনো মানুষ নেই। তাই ভিক্ষাও পাচ্ছি না। পরিবারের অক্ষম স্বামী ও তিন শিশুসন্তান রয়েছে। কেউ যদি খাবার এনে দেয় তাহলে পেট চলে। না হয় উপবাস থাকতে হয়।’

এদিকে এমন ত্রাণ প্রার্থীদের শহরের অলিগলিতে দেখা গেলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত কিছু মানুষ রাস্তায় নামেন না। তারাও অনেকে কষ্টে আছে বলে জানান। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। এ ত্রাণ বিতরণ ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকায় চলছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যারা লোকলজ্জার ভয়ে হাত পেতে নিতে পারেন না তাদের জন্য হটলাইন চালু করেছে। যেখানে ফোন দিলে খাবার না থাকলে খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। কিন্তু বেশির ভাগ অসহায় ও দুস্থদের কাছে সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগের কথা এখনো পৌঁছায়নি। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, যারা লোকলজ্জায় ত্রাণ নিতে আসেন না। তাদের জন্য আমরা হটলাইন চালু করেছি। আমরা স্বল্প পরিসরে তাদের বাসায় খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। যারা কষ্টে আছেন তারা যেন আমাদের হটলাইনে ফোন করেন। আমরা সাধ্যমতো তাদের বাসায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com